
ডিসেম্বর ২০২৫–এর শেষ সপ্তাহে তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল মূলত অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের হতাশার কারণে। তবে এই আন্দোলনের তীব্রতা ও বিস্তার অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যায়। এর পেছনে বড় ভূমিকা পালন করল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প বারবার ইরানের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন। জানুয়ারি ২, ৪ এবং ৯ তারিখে তিনি হুঁশিয়ারি দেন—প্রাণঘাতী সহিংসতা ব্যবহারের পরিণতি কঠোর হবে। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে আছে। জানুয়ারি ১৩ তারিখে তিনি আরও এগিয়ে বলেছিলেন, “সহায়তা আসছে” এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দখলের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এই বার্তাগুলো মানুষকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে, যদি প্রতিবাদ যথেষ্ট শক্তিশালী হয়, আন্তর্জাতিক সমর্থন আসতে পারে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানো সম্ভব।
এই বিশ্বাসের ভিত্তি ছিল ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কাজ। মাদুরোর বন্দি হওয়া, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, আইএসআইএস নেতা বাগদাদির হত্যা এবং কাসেম সোলেইমানির হত্যাকাণ্ড—এসব দেখিয়েছে যে, তিনি হুঁশিয়ারি দিলে তা বাস্তবে রূপ নেয়। এই ইতিহাস মানুষকে নিশ্চিত করেছিল যে, ঝুঁকি নেওয়া শুধু কথার বিষয় নয়; এটি বাস্তব ফল আনতে পারে।
ফলে, যারা আগে নিরাপদ দূরত্বে থেকে দেখছিল—মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী, শিক্ষার্থী—তারা এবার রাস্তায় নামার সাহস পেয়েছে। তারা বুঝতে পারে, এই মুহূর্তে প্রতিবাদ করা শুধু ঝুঁকি নয়, বরং পরিস্থিতি বদলানোর একটি সুযোগ। এই বিশ্বাসই আন্দোলনকে দ্রুত বিস্তৃত ও তীব্র করতে সাহায্য করেছে।
মানুষ এখন ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা নিয়ে ভিন্নভাবে ভাবছিল। তারা মনে করছিল, বিদেশি নজর এবং সম্ভাব্য সমর্থন আছে, তাই ভয় না পেয়ে প্রতিবাদ আরও দৃঢ়ভাবে চালানো সম্ভব। এই আত্মবিশ্বাস ছোট সমাবেশকে বড় আন্দোলনে পরিণত করেছিল। দ্রুতই শহরের বিভিন্ন এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রদেশের শহরগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল।
সংক্ষেপে, বিক্ষোভের এই তীব্রতা এবং দ্রুত বিস্তার শুধুই ঘরোয়া সমস্যার প্রতিফলন ছিল না। ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কাজ এবং তার বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সাহস এবং আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছিল। অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে, আন্তর্জাতিক সমর্থনের সম্ভাবনা থাকায় তারা এবার বেশি শক্তভাবে আন্দোলন করতে পারে। এই আস্থা তাদের রাস্তায় নামার এবং প্রতিবাদকে তীব্র করার মূল শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

