বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন সবসময় যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আসে না। অনেক সময় পরিবর্তন শুরু হয় মানুষের ধারণা বদলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। কোন দেশকে বন্ধু ভাবা হবে, কার ওপর নির্ভর করা যাবে, কোন বাজার নিরাপদ, কিংবা কোন জোট সংকটের সময় সত্যিই পাশে দাঁড়াবে—এসব প্রশ্নের উত্তর যখন বদলাতে শুরু করে, তখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিতও ধীরে ধীরে নড়ে যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তার অন্যতম ভিত্তি ছিল পারস্পরিক নির্ভরতা। দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, এমনকি সংঘাতও হতে পারে; কিন্তু তারপরও বাণিজ্য চলবে, কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তত কিছু সাধারণ নিয়ম ধরে রাখবে। এই ব্যবস্থার পেছনে যুক্তিটা ছিল সরল: অর্থনীতি যত বেশি পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে যাবে, বড় ধরনের সংঘাতে যাওয়ার আগ্রহ তত কমবে।
এই ধারণা পুরোপুরি সফল হয়নি। বড় শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে নিয়ম ভেঙেছে, ছোট দেশগুলো অনেক সময় চাপের মুখে পড়েছে, আর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও সব দেশের কাছে সমানভাবে ন্যায্য বলে বিবেচিত হয়নি। তবু এই কাঠামো বিশ্বকে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার স্থিতিশীলতা দিয়েছিল।
আজ সেই স্থিতিশীলতার জায়গায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এই পরিবর্তনটি বোঝার জন্য এডুয়ার্ডো পোর্টার-এর একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। দ্য গার্ডিয়ান-এ ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তাঁর লেখায় পোর্টার এমন এক সম্ভাব্য বিশ্বের কথা তুলেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে অন্য দেশগুলো নিজেদের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক পরিসর তৈরি করতে চাইছে। প্রশ্নটি হলো আমেরিকার প্রভাব কমছে কি না। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, সেই প্রভাব কমে গেলে তার জায়গায় কী আসবে।
পোর্টারের আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি এখানেই। একটি পুরোনো ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লেই তার জায়গায় নতুন ব্যবস্থা তৈরি হয় না। কোনো দেশ বলতে পারে যে সে আর একটি পরাশক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে চায় না। কিন্তু সেই নির্ভরতার বিকল্প হিসেবে কী ধরনের প্রতিষ্ঠান, জোট, অর্থনৈতিক কাঠামো কিংবা নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করা হবে—সেই প্রশ্নের উত্তর অনেক কঠিন।
অর্থাৎ, একটি ব্যবস্থার বিরোধিতা করা আর তার বিকল্প নির্মাণ করা এক জিনিস নয়।
এর কারণ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। আরও গভীর পরিবর্তন ঘটছে দেশগুলোর চিন্তাভাবনায়। আগে যে অর্থনৈতিক নির্ভরতাকে উন্নয়নের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখা হতো, এখন সেটিকেই অনেক সরকার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
চিপ, জ্বালানি, খাদ্য, বিরল খনিজ, প্রযুক্তি কিংবা আর্থিক লেনদেন-এর ক্ষেত্রে কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এখন কেবল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়। সংকটের সময় এগুলো রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে—এই উপলব্ধি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চরিত্র বদলে দিচ্ছে।
একটি দেশ যদি মনে করে যে তার গুরুত্বপূর্ণ কোনো পণ্য বা প্রযুক্তির সরবরাহ অন্য একটি দেশের হাতে, তাহলে সে বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজবে। কোনো দেশের নিরাপত্তা যদি একটি নির্দিষ্ট জোটের ওপর নির্ভরশীল হয়, সে অন্য অংশীদারও তৈরি করতে চাইবে।
অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একটি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বদলে বিভিন্ন বাজারে প্রবেশের চেষ্টা বাড়ছে।
স্বাধীনতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টা স্বাভাবিক। কিন্তু এর একটি অপ্রত্যাশিত ফলও রয়েছে। যেমন, পৃথিবী আরও বেশি ভাগ হয়ে যেতে পারে।
এখানে ভবিষ্যৎ বিশ্বকে শুধু ‘আমেরিকা বনাম চীন’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বাস্তবতা আরও জটিল। অনেক দেশ একই সঙ্গে দুই পক্ষের সঙ্গেই বাণিজ্যিক, প্রযুক্তিগত, প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবে।
ইউরোপ নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চাইতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। ভারত নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রেখে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে কাজ করতে চাইতে পারে। ব্রাজিল কিংবা অন্য উদীয়মান অর্থনীতিগুলোও কোনো স্থায়ী শিবিরে ঢোকার বদলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অংশীদার বেছে নেওয়ার পথ নিতে পারে।
ফলে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক রাজনীতি হয়তো দুটি বড় শিবিরে বিভক্ত হবে না। বরং তৈরি হতে পারে বহুস্তরীয় সম্পর্কের একটি জটিল নেটওয়ার্ক। যেমন, এক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, তৃতীয় দেশের সঙ্গে প্রযুক্তি অংশীদারিত্ব।
এটি নমনীয়তা বাড়াবে, কিন্তু একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও লেনদেনভিত্তিক করে তুলতে পারে।
আগের যুগে কোনো কোনো জোটের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ওপর দাঁড়ানো। ভবিষ্যতে দেশগুলো হয়তো প্রতিটি সম্পর্ককে আরও বেশি করে হিসাব করবে। কী পেলাম, কী দিতে হলো, সংকটের সময় কে পাশে থাকবে, আর কোন সম্পর্ক ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—সম্পর্কের হিসাব-নিকাশে এসব প্রশ্নই ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অর্থাৎ বন্ধুত্বের পাশাপাশি ‘বিকল্প ব্যবস্থা’ তৈরি করাই হয়ে উঠতে পারে রাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এখানে একটি বড় বৈপরীত্য রয়েছে। সবাই যদি নিজেদের নিরাপদ করতে আলাদা আলাদা সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করে, নিজস্ব প্রযুক্তি গড়ে তোলে এবং একাধিক নিরাপত্তা ও আর্থিক নেটওয়ার্ক বানায়, তাহলে প্রত্যেক দেশ হয়তো নিজের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারবে। কিন্তু সম্মিলিতভাবে পৃথিবী হয়ে উঠতে পারে আরও ব্যয়বহুল এবং অস্থিতিশীল।
কারণ পারস্পরিক নির্ভরতা কমানোরও একটি মূল্য আছে।
দুটি দেশ একই সরবরাহব্যবস্থা ব্যবহার করলে খরচ কম হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তারা যদি আলাদা ব্যবস্থা তৈরি করে, তাহলে একই পণ্য উৎপাদনে বেশি অর্থ লাগবে। একইভাবে, প্রতিটি দেশ যদি নিজের প্রযুক্তি ও আর্থিক অবকাঠামো আলাদাভাবে তৈরি করতে চায়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দক্ষতার বদলে নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পাবে।
তবে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও খুব বাস্তবসম্মত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যে সবসময় নিরপেক্ষ ছিল, এমন দাবি ইতিহাস সমর্থন করে না। বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য অসম ছিল, এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের প্রয়োগও সব সময় সমান ছিল না। বিশেষ করে পশ্চিমা জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অভিজ্ঞতায় এই ব্যবস্থার মধ্যে সহযোগিতার পাশাপাশি হস্তক্ষেপ ও চাপের ইতিহাসও রয়েছে।
তাই সমস্যার সমাধান পুরোনো ব্যবস্থাকে হুবহু ফিরিয়ে আনা নয়।
প্রশ্ন হওয়া উচিত: কোন জিনিসগুলো আমরা হারাতে চাই না?
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কিছু সাধারণ নিয়ম দরকার। আর্থিক সংকট সামলাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার। যুদ্ধ বা সংঘাত ঠেকাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ দরকার। ছোট দেশগুলোরও এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যেখানে তাদের স্বার্থ অন্তত কিছুটা হলেও বড় শক্তিগুলোর স্বার্থের পাশে বিবেচিত হবে।
কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানকে টেকসই করতে হলে তাদের বৈধতাও বাড়াতে হবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের গুরুত্ব যে মাত্রায় বেড়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার কাঠামো সব ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থা যদি সত্যিই বহুপাক্ষিক হতে চায়, তাহলে শুধু নতুন নিয়ম তৈরি করলেই হবে না; বরং কারা সেই নিয়ম তৈরি করবে, কারা সিদ্ধান্ত নেবে এবং কার স্বার্থ কতটা প্রতিনিধিত্ব পাবে, সেই প্রশ্নও নতুন করে ভাবতে হবে।
কিন্তু এখানেই সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা।
বিদ্যমান কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা দেখানো সহজ। তার কার্যকর বিকল্প তৈরি করা অনেক কঠিন। একটি দেশ চাইলে দ্রুত কোনো চুক্তি থেকে সরে যেতে পারে, কোনো প্রতিষ্ঠানকে উপেক্ষা করতে পারে কিংবা নিজের নীতি বদলে ফেলতে পারে। কিন্তু নতুন একটি ব্যবস্থা দাঁড় করাতে বহু দেশের দীর্ঘ আলোচনা, আপস এবং পারস্পরিক আস্থার প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় কথা, প্রত্যেক দেশকে কিছু সীমাবদ্ধতাও মেনে নিতে হবে।
কারণ কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান মানেই শুধু অন্যদের ওপর নিয়ম চাপানো নয়। নিজের দেশও সেই নিয়মের অধীন থাকবে—এই সম্মতি ছাড়া কোনো বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
এ কারণেই পোর্টারের ‘অ্যাড-হক’ বা প্রয়োজনমাফিক বিচ্ছিন্ন চুক্তিনির্ভর বিশ্বের আশঙ্কাটি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনের সবচেয়ে বড় বিপদ হয়তো বিশ্বায়নের আকস্মিক পতন নয়। বরং ধীরে ধীরে এমন একটি পৃথিবী তৈরি হওয়া, যেখানে সবাই সবার সঙ্গে কিছুটা করে কাজ করছে, কিন্তু কোনো একটি সাধারণ কাঠামোর ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখছে না।
বাণিজ্যে বেশি বাধা, প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতা, অর্থনীতিকে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের লড়াই—এসব একসঙ্গে বাড়তে থাকলে বিশ্ব হয়তো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হবে না, কিন্তু আগের তুলনায় অনেক বেশি খণ্ডিত হয়ে উঠবে।
তখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধরনও বদলাবে।
যেখানে স্বার্থ মিলবে, সেখানে সহযোগিতা হবে। স্বার্থ আলাদা হলেই সম্পর্কের উষ্ণতা কমে যাবে। স্থায়ী বন্ধুত্বের চেয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়ের অংশীদারিত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আর এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে আস্থা।
কারণ যখন কোনো একক শক্তিকে সব পক্ষের নিরাপত্তার গ্যারান্টর হিসেবে ধরা যায় না, তখন দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসই ব্যবস্থাটিকে সচল রাখার প্রধান ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
তাই সামনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো: বিশ্ব কি বর্তমান অস্থিরতাকে ব্যবহার করে একটি নতুন ও আরও গতিশীল আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরি করতে পারবে, নাকি প্রতিটি দেশ কেবল নিজের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাওয়া নিজে কোনো সমাধান নয়, আবার তা নিজে কোনো বিপর্যয়ের নিশ্চয়তাও নয়। এটি একটি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করছে। সেই সুযোগ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা জন্ম নেবে, তা নির্ভর করবে অন্য দেশগুলো কীভাবে নিজেদের ভূমিকা নির্ধারণ করে এবং তারা একে অপরের সঙ্গে কতটা নিয়মভিত্তিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তার ওপর।
পুরোনো বিশ্বব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু তার পতনকে উন্নতির সমার্থকও ধরা যায় না।
আগামী দিনের আসল সাফল্য হবে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে কোনো দেশকে নিজের নিরাপত্তা বা সমৃদ্ধির জন্য একটি মাত্র পরাশক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে না। আর সেই ব্যবস্থা টিকবে তখনই, যখন বড় শক্তি থেকে ছোট রাষ্ট্র, সবাই অনুভব করবে যে নিয়মগুলো কেবল অন্যদের জন্য নয়, তাদের নিজেদের জন্যও প্রযোজ্য।
একটি পরাশক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো তাই কেবল প্রথম ধাপ।
তার চেয়েও কঠিন কাজ হলো এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে কারও একক আধিপত্যের প্রয়োজনই থাকবে না।

